April 13, 2026, 11:50 pm

mostbet
সংবাদ শিরোনাম
অধিকার না ব্যবসা? ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের অন্ধকার অর্থনীতি রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

লামায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যন্ত্রাংশ মেরামতের দ্রুত উদ্যোগ দরকার

মো. ইসমাইলুল করিম নিজস্ব প্রতিবেদক:
পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি এক্সরে মেশিনের মধ্যে ১টি ২ বছর ধরে ও ২টি গত এক দশক থেকে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সচল একমাত্র এক্সরে মেশিনটি ২০২৩ সালের লামায় ভয়াবহ আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নিমজ্জিত হয়ে অচল হয়ে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে এক্সরে মেশিনটি মেরামত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখায় বার বার পত্র দেওয়ার পরও এক্সরে মেশিন মেরামতের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত গ্রহণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ এখিং মার্মা। কবে নাগাদ এই অচল এক্সরে মেশিন মেরামত করে সচল করা হবে তা কেউ জানাতে পারছে না।বান্দরবান জেলার সিভিল সার্জন দিলীপ কুমার দেবনাথ বলেন, লামা হাসপাতালের নষ্ট যন্ত্রপাতির বিষয়ে আমাকে জানানো হয়েছে। এক্সরে মেশিন সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামতের দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে।
জানা যায়, গত ২০২০ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর টিবিএল এন্ড এএসপি’র মাধ্যমে ফুজি কোম্পানি একটি ডিজিটাল এক্সরে মেশিন লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরবরাহ করেন। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে অতিবর্ষনে সৃষ্ট বন্যায় লামা হাসপাতাল সহ লামা শহর তলিয়ে যায়। এই পাহাড়ি ঢলে হাসপাতালের টিবিএল এর সরবরাহকৃত এক্সরে মেশিন সহ আরো দুইটি এক্সরে মেশিনই পানিতে নিমজ্জিত হয়ে অচল হয়ে যায়। এছাড়া হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাফি, ইসিজি, জেনারেটর, আটো মেশিনসহ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়। লামা হাসপাতালের স্টোর কিপার মো. নওফেল জানান, এক্সরে মেশিন দুটি মেরামত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট লাইন ডাইরেক্টর বরাবরে অনেকবার পত্র দেওয়া হয়েছে। এই পত্র প্রেরণের পর টিবিএল ব্রাক অফিসের মাধ্যমে একটি প্রতিনিধি দল এক্সরে মেশিন মেরামতের জন্য চেষ্টা করেন। ব্র্যাকের প্রতিনিধি দল লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানায় নষ্ট মেশিন মেরামতের জন্য জাপান থেকে যন্ত্রাংশ আনতে হবে। কবে নাগাদ যন্ত্রাংশ আনা হবে বা এক্সরে মেশিন মেরামত করতে কতদিন সময় লাগবে তার সুনির্দিষ্ট সময় ব্র্যাকের প্রতিনিধি দল জানাতে পারেনি।
বান্দরবান জেলার অর্ধেক জনসংখ্যার বসবাস অত্র লামা উপজেলায়। এছাড়া পার্শ্ববর্তী আলীকদমের চৈক্ষ্যং ও চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের জনসাধারণ লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হতে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে থাকে। লামা মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জুবাইরুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে ন্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও লামা স্বাস্থ্য বিভাগের এই সমস্যা নিরসনে বিগত দিনে দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ জেলা পরিষদ গ্রহণ করে নাই। লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে ও আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন ৩শত থেকে ৫শত রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। যন্ত্রপাতির অভাবে সঠিক রোগ নির্ণয় করতে না পারায় বিনা চিকিৎসায় বেশিরভাগ রোগীকে ফিরে যেতে হয়। অনেককে অন্যত্র চিকিৎসা গ্রহণের পরামর্শ নিয়ে ফিরে যেতে হয়। এদিকে হাসপাতালের বিদ্যুৎ লাইনে লো-ভোল্টেজের কারণে ওটি, অটোগ্লাব মেশিনসহ বিভিন্ন কাজ করা যাচ্ছেনা।
লামা হাসপাতালে আঘাত নিয়ে ভর্তি রোগী রূপসীপাড়ার মংপ্রু পাড়ার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও গজালিয়া ইউনিয়নের মংব্রাচিং মার্মা জানান, আঘাত জনিত কারণে চিকিৎসা নিতে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডাক্তার তাদের এক্সরে করার পরামর্শ দেয়। হাসপাতালে এক্সরে না থাকায় টাকার অভাবে লামার বাহিরে গিয়ে এক্সরে করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। এক্সরে করতে না পারার কারণে চিকিৎসা না নিয়েই তাদের বাড়ি ফিরে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এখিং মার্মা জানান, আইসিডিডিআরবি পোর্টেবল এক্সরে দিয়ে সপ্তাহে একদিন লামা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের এক্সরে করা হত। বর্তমানে গত দুই মাস ধরে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালের পুরাতন ২টি অচল এক্সরে মেশিন চালু করা সম্ভব নয়। ২০২৩ সালে বন্যায় ডুবে যাওয়া অপর চালু এক্সরে মেশিনটি মেরামত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর বরাবরে অসংখ্যবার পত্র দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে মেরামতের জন্য আশ্বস্ত করা হয়।
সংবাদ প্রেরক:
মো. ইসমাইলুল করিম
বান্দরবান থেকে:
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর